রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে চরম সহিংস পথ বেছে নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে তাজা গুলি ছোড়া হচ্ছে। এতে গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ চলমান থাকা এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে নিরাপত্তাবাহিনী ব্যাপক দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত চিত্র বাইরে আসতে বিলম্ব হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমটির হাতে আসা দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক এলাকা থেকে পাঠানো একটি ভিডিওতে রাস্তায় পড়ে থাকা একাধিক মরদেহ এবং কয়েকটি মরদেহ বডি ব্যাগে ভরে রাখতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে কয়েক ডজন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া একটি শিল্প এলাকার শেডের কাছেও আরও কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এর আগে ফারদিস, কারাজ এবং পূর্ব তেহরানের আলঘাদির হাসপাতাল থেকে পাঠানো ভিডিওতেও মরদেহ পড়ে থাকার দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিও ইঙ্গিত দিচ্ছে, সহিংসতা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নয় যেখানেই বিক্ষোভ হচ্ছে, সেখানেই প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় পুরো পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে আসছে না বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দেশের বহু স্থানে সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের শহর রাশত-এর এক চিকিৎসক সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র একটি হাসপাতালেই অন্তত ৭০টি মরদেহ আনা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, তেহরানের বিভিন্ন এলাকা এবং কারাজের ফারদিস অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা চলছে। এছাড়া অন্যান্য শহর থেকেও বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক হারে গুলি চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায়, ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ও তথ্য বাইরে পাঠাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।